কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) কী?

কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) কী? সহজ কোনও ব্যাখ্যা হতে পারে কি?

আমার খুবই ভাগ্যবান যে এই যুগে জন্মেছি, কয়েক শতাব্দী ধরে চলে আসা এক অনুমান এর সত্যিকারের ছবি দেখতে পাচ্ছি। ১০ ই এপ্রিল ,২০১৯ এ ছবি আমাদের সর্বসমক্ষে আসে।হ্যাঁ এটি হল M87 গ্যালাক্সি তে থাকা একটি কৃষ্ণগহ্বর এর ছবি।

এতদিন গুগোল এ যেগুলো দেখতাম সেগুলো নিছক কাল্পনিক ছবি। কৃষ্ণগহ্বর এর সহজ সংজ্ঞা দিতে গেলে বলতে হবে, একটি তারা বা নক্ষত্র যখন মারা যায় তখন সৃষ্টি হয় একটি কৃষ্ণগহ্বর। যেসব জ্যোতিষ্ক এর নিজস্ব আলো আছে তাদের তারা বা নক্ষত্র বলে জানি আমরা। এই আলো উৎপন্ন হয় কিভাবে তবে? আমরা লণ্ঠন জ্বালিয়ে আলো করতে তো জ্বালানি জোগান দিতে হয়। তাহলে নক্ষত্রেরও জ্বালানি দরকার।

নক্ষত্রের জ্বালানি হল হইড্রোজেন এর সংযোজন বিক্রিয়া ও তার থেকে উদ্ভূত আলো ও শক্তি।এই নিয়মিত হইড্রোজেন সংযোজিত হওয়ার ফলে তার তুলনায় ভারী মৌলের উদ্ভব হয়। বহু লক্ষ বছর পর যখন জ্বালানি শেষ হয় তখন নক্ষত্রটির কেন্দ্রে ভারী মৌলের উপস্থিত এর জন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে এই ধরনের কৃষ্ণগহ্বর এর সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অর্থাৎ ওর মাধ্যাকর্ষণ বলয়ের বৃত্তে যা যা আসে তাকেই ওই গহ্বর গ্রাস করে,এমনকি আলো ঢুকলে তাও পেরিয়ে যেতে পারেনা, আলো কেও শোষণ করে নেয়। নক্ষত্রের আকার যত বড় হয় সেই অনুপাতে সেই নক্ষত্র থেকে সৃষ্ট কৃষ্ণগহবর এর আকার ও শক্তি বেশি হয়।

সম্প্রতি উপরিউক্ত কৃষ্ণগহ্বর টি বিশালাকৃতির একটি নমুনা। বলা হচ্ছে যে এটি প্রায় ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার বিস্তৃত। এটি আমাদের পৃথিবী থেকে ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

By ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *