সুপারফ্লাই

মাছি হলো বাস্তব জীবনের সুপারহিরো।
কি, অবাক হলেন তাই না?
খুলেই বলছি, পুরোটা পড়ুন। মজা পাবেন।

সুপারহিরো মুভিতে আমরা দেখতে পাই কুইকসিলভার কিংবা ফ্ল্যাশের মত সুপারহিরোরা অতি দ্রুত ঘটে যাওয়া কোন ঘটনাও সুপার স্লো-মোশনে দেখতে পায়৷ বিশেষ করে এক্স-মেন মুভি সিরিজের কুইকসিলভার৷ সে নিজেও যেমন দ্রুতগামী, তেমনি সে দ্রুত ঘটে যাওয়া কোন দৃশ্য সুপার স্লো-মোশনে দেখতে পায়। কিন্তু এটা শুধুমাত্র মুভিতেই সম্ভব। বাস্তবে নয়। কারণ বাস্তবে আমাদের চোখ প্রতি সেকেন্ডে মাত্র ৬০টা ছবি তুলে আমাদের মস্তিষ্কে পাঠায় সেটা প্রসেস করার জন্য। আমাদের মস্তিষ্ক সেটা প্রসেস করে আমাদের চলমান দৃশ্য দেখায়। এখানে আমাদের চোখ যদি ৬০ এর স্থলে ৫০০ কিংবা ১০০০টা ছবি আমাদের মস্তিষ্কে পাঠাতো, তাহলে আমরাও কুইকসিলভারের মত (কিংবা তার কাছাকাছি) সব দৃশ্য স্লো-মোশনে দেখতে পেতাম। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম হতো, মনে করেন কেউ একজন আপনাকে গুলি করল। স্বভাবতই আপনি বুলেটটা দেখতে পাবেন না। কিন্তু কুইকসিলভারের মত হলে আপনি দেখবেন, বুলেটটা আস্তে আস্তে আপনার দিকে আসছে। ব্যাপারটা মজার না?

এবার আসি মাছির ব্যাপারে। আমাদের চোখ যেখানে প্রতি সেকেন্ডে ৬০টা ছবি আমাদের মস্তিষ্কে পাঠায়, সেখানে একটা মাছির চোখ সেকেন্ডে ২০০টা ছবি তার মস্তিষ্কে পাঠায়। মাছির মস্তিষ্ক যখন সেটাকে প্রসেস করে চলমান দৃশ্যে রুপ দেয় তখন সে সবকিছু আমাদের থেকে অনেক স্লো দেখে। যেটাকে আমরা স্লো-মোশন বলি। মানে আপনি তাকে মারার জন্য থাবা মারলেন, সে দেখবে আস্তে আস্তে আপনার হাতটা তার দিকে এগিয়ে আসছে। এই সুযোগে সে সহজেই পালিয়ে যাবে। এইজন্যই মাছিকে মারা অতটা সহজ না।

By  ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *