অরোরা

চরিত্র : ১) জেসলিন – সাহসী, মেধাবী নারী নভোচারী। 

২) নাদিম – জেসলিনের ভালোবাসার মানুষ এবং নভোচারী। 

৩) জিসান – নভোচারী 

৪) রায়হান – বিজ্ঞানী।

৫) অরোরা – জেসলিনের ক্লোন।

—————————————–

 

জেসলিন; খুব সাহসী প্রানবন্ত একজন নভোচারী। মেধাবীও বটে। বিশ্বজুড়ে সুনাম ও খ্যাতি রয়েছে তার। অজানাকে জানার আগ্রহ তার ছেলেবেলা থেকেই। সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ সম্পর্কে জানতে জানতে তার আগ্রহ হলো সৌর জগতের সবচেয়ে শীতলতম গ্রহ নেপচুন গ্রহে যাওয়ার। হয়তো গ্রহে পা রাখতে পারবে না ঠাণ্ডায় জমে থাকা মিথেন গ্যাসের মেঘের জন্য। সূর্য থেকে দূরে থাকার জন্য এই শীতলতম গ্রহতে পা রাখার সাথে সাথে হয়তো জমে বরফ হয়ে যাবে, তবুও অদম্যকে দমন করার প্রয়াসে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নেপচুনে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তার সাথে সঙ্গী হবে তার ভালোবাসার মানুষ নাদিম এবং আরও ১ জন নভোচারী জিসান। একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানীও থাকবেন তাদের সাথে; নাম রায়হান। ৪ জনের এই টিম স্পেসশীপ নিয়ে পাড়ি দিবে নেপচুন গ্রহে। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে স্পেসশীপে যাত্রা শুরু তাদের। জেসলিন তার নিখুঁত বুদ্ধিতে খুব ভালোমতো স্পেসশীপ পরিচালনা করছিল। বেশ কয়েকবার ছোটছোট দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে নিজেদের এবং স্পেসশীপ। অবশেষে তারা নেপচুন গ্রহের কাছাকাছি চলে এসেছে। কাছাকাছি আসা মাত্র জিসান জেসলিনকে বললো সে আগে গ্রহে নামতে চায়, সেখানে কিছুক্ষণ থাকার উপযোগী হলে এক এক করে সবাই নামবে। তাপোৎপাদী যন্ত্রের মাধ্যমে নিজ দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে সে অবতরণ করলো। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় ছিল না। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আর মিথেন গ্যাসের প্রভাবে তার শরীর নিস্তেজ শীতল হতে লাগলো। স্পেসশিপে আর ফিরতে পারলো না। তার নিথর দেহ পড়ে রইলো নেপচুনের বরফ স্তরে৷ জেসলিন পৃথিবীতে ফিরে আসার পদক্ষেপ নিলো। আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকি৷ এমন সময় নাদিম বুঝতে পারলো স্পেসশিপে অক্সিজেন স্বল্পতা। তিনজন ব্যক্তি পৃথিবীতে সুস্থভাবে ফিরতে হলে যে পরিমান অক্সিজেন প্রয়োজন তা স্পেসশীপে নেই। কিন্তু নাদিম চায় না রায়হানের মতো বিজ্ঞানী কিংবা তার ভালোবাসার মানুষ জেসলিন পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক এত সহজে। নাদিম জেসলিনকে ডেকে বুকে নিলো এবং বললো “তুমি অনেক ভাল এবং মেধাবী, আমি চাই না তোমার মৃত্যু হোক এত তাড়াতাড়ি। আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসি৷ একসময় বলেছিলাম আমি আজীবন তোমার পাশে থাকবো, কিন্তু আমাকে ক্ষমা করে দিও, আমি আমার কথা রাখতে পারলাম না৷ আমাদের ছোট সংসারের স্বপ্নটা মহাকাশের শূণ্যেই রয়ে গেলো। ভালো থেকো তুমি। শেষবারের মতো বলতে চাই অনেক ভালোবাসি তোমায়”। জেসলিন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না। কেবল নাদিমের হৃদস্পন্দন শুনছিল। নিজের অজান্তেই চোখ থেকে পানি পড়ছিল। রায়হানকে নাদিম বললো “একসময় তুই অনেক বড় বিজ্ঞানী হবি, তোর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ভালো থাকিস বন্ধু। জেসলিনকে ঠিকমতো দেখে পৃথিবীতে পৌঁছে দিস৷! এই বলে নাদিম অজ্ঞান হয়ে পড়লো। ধীরে ধীরে তার দেহ শীতল হতে লাগলো। বুঝতে পারলো নাদিম আর নেই। সে আত্মত্যাগ করেছে জেসলিন এবং রায়হানকে বাঁচানোর জন্য। মানবতা ও ভালোবাসার জয় এখানেই। আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি পৃথিবীতে পৌঁছাতে। হঠাৎ জেসলিন অজ্ঞান হয়ে যায়৷ পৃথিবীতে পৌছা মাত্র রায়হায় জেসলিনের চিকিৎসা করার জন্য শহর থেকে একটু আড়ালে নিয়ে যায়। রায়হান ভেবেছিল জিসান এবং নাদিম এর মৃত্যু শোক এবং শারীরিক অবনতি দুই মিলে জেসলিন এখন অফিশিয়াল কাজ করার উপযুক্ত না। জেসলিন অজ্ঞান ছিল প্রায় ৩ দিন। এই সময়ে রায়হান ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যস্ত ছিল। অজ্ঞান থাকাকালীন সময়ে গোপনে জেসলিনের ক্লোন তৈরি করার জন্য তার শরীর থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা হলো। এই কথা কেউই জানতো না। জেসলিনের জ্ঞান ফেরার পর সে তার ভালোবাসার মানুষ আর সঙ্গী হারানোর কষ্ট মেনে নিতে পারছিল না। তাই সে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিল সুদূর এক গ্রামে। মাঝেমধ্যে শহরে এসে মহাকাশের রহস্য উদঘাটন করায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতো আর বাকিসময় নাদিমের স্মৃতি নিয়ে দিন কাটাতো। 

 

এদিকে রায়হান তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালিয়ে যায়। জেসলিনের ডিএনএ ব্যবহার করে এক এক করে সে ৭ টা ক্লোন তৈরি করে। দেখতে হুবহু জেসলিনের মতো৷ তবে এদের মানুষ বলা হয় না। এরা ক্লোন। বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজেই এদের ব্যবহার করা হবে। এদের গণ্ডি ল্যাবরেটরির চার দেয়ালে৷ দরজার ওপাশে যে একটা সুন্দর পৃথিবী আছে এটা তাদের জানা ছিল না। এরা ল্যাবরেটরির গিনিপিগ। ২০১৯ সাল এখন। জেসলিন বিয়ে করেনি। বয়স বেড়েছে। সে ঘূনাক্ষরেও জানতে পারলো না তার অগোচরে বেড়ে ওঠা তার ক্লোনদের কথা। তাদের বয়স এখন ২১ বছর৷ রায়হান গত ৩ বছরে তাদের মধ্য থেকে ৪ টা ক্লোনকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহার করেছে৷ কিন্ত সফল হয়নি। এখন ৩ টি ক্লোন অবশিষ্ট আছে। এদের কোনো নাম দেয়া হয় না। সংখ্যা ধরে ডাকা হয়। হঠাৎ পৃথিবী জুড়ে করোনা নামে এক ভয়ংকর মরণব্যাধি রোগ ছড়িয়ে পড়ে। ছোঁয়াচে এই রোগের জন্য পৃথিবী যেন লাশের ডোমঘরে পরিণত হচ্ছে। আনাচেকানাচে কেবল লাশের গন্ধ। ছোঁয়াচে হওয়ার জন্য কেউ লাশ ছুঁয়ে দেখে না। মাটিচাপা দেয়া হয়, সৎকার করা হয় না ঠিকভাবে। এমন সময় রায়হান তার গবেষণা শুরু করলো করোনা নামক মরণব্যাধিকে নির্মূল করার জন্য। ২০২০ সালের শেষে এসে রায়হান একটা ঔষধ আবিষ্কার করলো। কিন্তু সেটার কার্যকরীতা বুঝার জন্য আবার একটি ক্লোনকে ব্যবহার করা হবে। রায়হান অবশিষ্ট ৩ টি ক্লোনকে কোভিড-১৯ (করোনা) সম্পর্কে বিস্তারিত বললো এবং এটাও বললো একজন ক্লোন যদি স্বেচ্ছায় দেহে এই ভাইরাস নেয় তাহলে তার দেহে ঔষধ প্রয়োগ করে এর কার্যকরীতা দেখা যাবে। রায়হান জানতে চাইলো কেউ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করতে চায় কিনা। এমন সময় ৭ নাম্বার ক্লোন সামনে এগিয়ে এলো। সে স্বেচ্ছায় তার শরীরে ভাইরাস নিতে চায়। এই প্রথম কোনো ক্লোনের জন্য রায়হানের খারাপ লাগছে। বাকি ২ টি ক্লোনেরও খারাপ লাগছে। এর আগে কোনো ক্লোনের নাম দেয়া না হলেও ৭ নাম্বার ক্লোনের নাম দিলো তারা দুজন “অরোরা”৷ কেননা অরোরার মাঝে তারা দেখতে পেয়েছিল পৃথিবীর টিকে থাকার সম্ভাবনার আলো। অরোরাকে রাখা হবে একটা দ্বীপের কাছে, সবার থেকে। গুটিকয়েক লোক সেখানে বসবাস করলেও সেটাকে পরওয়া না করে গবেষণার খাতিরে আরোরাকে রাখা হলো ক্রান্তি (কাল্পনিক) দ্বীপের কাছে। তার শরীরে এখন মরণব্যাধি করোনার বীজ। তবে এটা ছিল গোপনীয়। সেখানকার কেউ জানতো না এই বিষয়ে। ২ দিন পর তার শরীরে প্রয়োগ করা হবে আবিষ্কৃত ঔষধ। লোকালয়ে নতুন দেখে কিছু লোক অরোরার কাছে আসতে চাইলো তার খোঁজখবর জানার জন্য। কিন্তু অরোরা সব জেনে তাদের বাঁধা দিলো। কেননা তার দেহে তো ছোঁয়াচে মরন বীজ। স্থানীয় লোকরা সন্দেহ করলো হয়তোবা তাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য কিংবা এলাকা থেকে তাড়ানোর জন্য অরোরা কোনো গ্যাঙের পক্ষ হয়ে এখানে এসেছে। তারা অরোরাকে হত্যা করার নীল নকশা তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু ঈশান নামের এক যুবক অরোরাকে দেখে তার প্রেমে পড়ে গেলো। এই সুন্দর মায়াবী মেয়ে কারো ক্ষতি করতে পারে না বলে তার ধারণা। ঈশান অরোরার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলো, তার এখানে আসার পেছনে কারণ জানার চেষ্টা করলো। কিন্তু সফল হতে পারছিল না। 

 

আগামীকাল ভোরে অরোরার শরীরে ঔষধ প্রয়োগ করা হবে। কার্যকর হলে এই যাত্রা বেঁচে যাবে সে। নয়তো এখানেই থেমে যাবে তার জীবন। তার আগের রাতে লুকিয়ে অরোরার কুঁড়েঘরে প্রবেশ করলো ঈশান। ঈশানকে দেখে অরোরা আৎকে উঠলো। জোড় হাতে অনুরোধ করলো কাছে না আসার জন্য। অবশেষে দূরত্ব রেখে অরোরা সব খুলে বললো ঈশানকে। এও বললো সে মানুষ না, কোনো এক নারীর ক্লোন। কিন্তু কে সে নারী এটা তার অজানা। তাকে সৃষ্টি করেছে বিজ্ঞানী রায়হান। সব শুনে অরোরার প্রতি ঈশানের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেলো। ঈশান গুগল সার্চ করে রায়হানের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলো। এবং তার ইতিহাস ঘাটতে শুরু করলো। তখন তার চোখে পড়লো ২১ বছর আগের এক সংবাদ। যেখানে ৪ জনের একটি টিম পাড়ি জমিয়েছিল নেপচুন গ্রহকে জানার উদ্দেশ্য নিয়ে। এর মধ্যে একজন ছিল নারী নভোচারী; জেসলিন। এরপর গুগলে জেসলিন সম্পর্কে সার্চ করতে গিয়ে ঈশান অবাক। হুবহু অরোরার মতো। ঈশান বুঝলো অরোরা এই মেধাবী পরিশ্রমী জেসলিনেরই ক্লোন। ভোর হয়ে এলো। ঈশান বেরিয়ে পড়লো জেসলিনের বর্তমান ঠিকানার খোঁজে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো। রায়হান এলো অরোরার কাছে বিভিন্ন প্রটেকশন নিয়ে। অরোরা ঘরের জানালা দিয়ে যতদূর চোখ যায় ততদূর তাকিয়ে আছে। ঈশানের কথা ভাবছে। ঈশান ল্যাবরেটরির বাইরে প্রথম মানুষ যার সাথে অরোরা মন খুলে কথা বলেছে। এক রাতে ঈশানের প্রতিও অরোরার ভালো লাগা জন্মেছে। হয়তো এটাকে ভালোবাসা বলে, অরোরার ঠিক জানা নেই। কিন্তু সে তো একটা ক্লোন মাত্র। এতদিন ৭ নাম্বার ক্লোন পরিচয়েই বড় হয়েছে। কোনো মানুষ পরিচয়ে না। এসব ভাবতে ভাবতে পেছন ফিরে দেখে রায়হান হাজির। আজ কোনো ক্লোনের জন্য রায়হানের চোখের কার্ণিশে জল। অরোরা শুধু রায়হানকে একটা প্রশ্নই করলো “আমার মায়ের নাম কি জেসলিন? আচ্ছা ক্লোনের কি মা থাকে?” রায়হান শুধু মাথা নাড়িয়ে ইতিবাচক উত্তর দিলো কিন্তু কোনো কথা উচ্চারণ করার শক্তি ছিল না। এদিকে এলাকার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে অরোরার কুঁড়েঘরটা ঘেরাও করলো তাকে হত্যা করবে নয়তো এলাকা থেকে বিতারিত করবে। অরোরার শরীরে ঔষধ প্রয়োগ করা হলো। এক রাত অপেক্ষা করতে হবে কার্যকারিতা বুঝার জন্য। রায়হান ঘর থেকে বের হয় এলাকাবাসীর কাছে এক রাত সময় চাইলো। আগামীকাল তারা দুজন চলে যাবে। রায়হান অরোরার পাশে বসে আছে। রাত প্রায় ১২ টা। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়লো কেউ। রায়হান দরজা খুলে ঈশানকে দেখতে পেলো। “কি চাই?!” – জিজ্ঞেস করতে না করতেই ঈশানের চোখ পড়লো জেসলিনের দিকে। ২১ বছর পর তাদের দেখা। জেসলিনের বয়স ৫০ এর কাছাকাছি। অবাক চোখে রায়হান তাকিয়ে রইলো। রায়হানের চোখেমুখে অপরাধ আর ক্ষমার ছাপ। জেসলিন কিছুই বললো না। রায়হানের পাশ কাটিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখলো হুবহু তার মতো দেখতে বিছানায় শুয়ে আছে তার ৭ নাম্বার ক্লোন। সারারাত কোনো কথা নেই। রায়হান, ঈশান, জেসলিন সবাই তাকিয়ে আছে অরোরার দিকে। ঘন্টা কয়েক বাকি, ভোরের আলো ফুটবে। হয়তো অরোরা ওর নামের মতোই জেগে উঠবে কিংবা আলো ডুবে যাবে অন্ধকার গহ্বরে। ভোর হয়েছে, অরোরা জেগে উঠেছে। ক্লান্ত চোখে অরোরা চোখ খুলে তার মতো দেখতে একজন মধ্যবয়সী নারীকে দেখলো। বুঝতে বাকি রইলো না এটা জেসলিন। ক্লান্ত স্বরে অরোরা বললো “ক্লোনের কি মা হয়? আমি কি তোমাকে মা ডাকতে পারি?”। জেসলিন কেঁদে উঠলো। অরোরাকে বুকে জড়িয়ে নিলো। তার শরীরে আদৌ করোনার বীজ আছে কিনা তা না জেনেই মৃত্যুকে উপেক্ষা করে অরোরাকে জড়িয়ে কাঁদলো। অরোরা কাঁদো কাঁদো সুরে বললো “তোমার আরও ২ টা কন্যা আছে মা। আমার কিছু হলে তুমি ওদের দেখো। ওদেরকেও আমার মতো তোমার ভালোবাসা উপলব্ধি করার সুযোগ দিও”। জেসলিনের আজ নাদিমের কথা ভিষণ মনে পড়ছে। হয়তো তাদের সংসারটা পরিপূর্ণতা পায়নি, তবে অরোরাকে বুকে নিয়ে সে মাতৃত্বের স্বাদ বুঝতে পারছে, যেখানে মৃত্যুভয় তুচ্ছ। আর ঈশান যদি এলাকাবাসীর মতো একজোট হয়ে থাকতো তাহলে হয়তো জেসলিন কখনো জানতেই পারতো না তার অগোচরে বেড়ে উঠেছে তারই অংশ….

By Farjana Aktar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *