দৈনন্দিন এর প্রযুক্তি

বর্তমানে আমরা যেসব যন্ত্র বা ডিভাইস ব্যবহার করি তা আমাদের বিভিন্ন রকম তথ্য দিয়ে জীবনকে করে তুলেছে আরও সহজ ও আধুনিক। এমন যদি হত যে  এই ডিভাইস গুলো শুধু আমাদের অর্থাৎ মানুষের কাছেই নয়, তাদের নিজেদের মাঝেও তথ্য আদানপ্রদান করে প্রয়োজনে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারত? তাহলে দুনিয়া অবশ্যই আরো মজার হত, তবে এমন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বুদ্ধির প্রয়োজন যা যন্ত্রের কাছে নেই। নাকি তাদের ও বুদ্ধি আছে।

 

আজকের দুনিয়া যেন স্মার্ট ডিভাইসের জাদু তে মুগ্ধ হয়ে আছে। সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে  আমাদের স্মার্টফোন। ইমার্কেটারের   তথ্যসূত্র অনুযায়ী, গোটা দুনিয়া তে স্মার্টফোন ব্যবহারীদের সংখ্যা  ইতোমধ্যেই দুই মিলিয়ন পার করে ফেলেছে।  যদি আমরা ধরে নেই যে  এদের মাঝে সকলেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, তাহলে শুধু স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান প্রদান হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ ডাটা আমাদের চারপাশেই উড়ে বেড়াচ্ছে।স্মার্টফোন বা আমাদের কম্পিউটার ছাড়াও আরো অনেক কিছুই ইন্টারনেট এ সংযুক্ত হতে পারে। এ সকল ডিভাইস বা বস্তু ও ইন্টারনেট এর মাধ্যমে বিপুল তথ্য আদান প্রদান করে থাকে। কিন্তু এই স্মার্ট ডিভাইসের অর্থ কি? কেন  সবাই  ইদানীং এটা নিয়ে এত আলোচনা করছে? এ সকল প্রশ্ন জানার আগে আসুন আমরা “স্মার্ট” একটি জগত সম্পর্কে  জেনে নিই। এমন একটি জগত যেখানে বস্তুরও অনুভুতি রয়েছে।

 

১৯৯৩ সালে প্রথম  জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে  “মোজাইক” এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর থেকে ইন্টারনেটে বিচরণ করা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সহজ হতে থাকে। খুব দ্রুত সময়ে মানুষ ইন্টারনেট কে বিপুল পরিমাণ তথ্যের ভান্ডারে পরিণত করে। আজকে আমাদের অনেকগুলো জনপ্রিয় ব্রাঊজার রয়েছে এবং আরো একটি জিনিস আছে  যাকে আমরা বলি “ক্লাউড”। ক্লাউড হল বিশাল এক ডাটা সেন্টার  যেখানে আমরা আমাদের তথ্য বা ডেটা জমা রাখতে পারি। এই ক্লাউড সিস্টেম আমাদের যোগাযোগ  ক্ষেত্রে  এক নাটকীয় পরিবর্তন আনতে পেরেছে। ক্লাউড এর কারণে আমরা আগের তুলনায় অনেক কম সময়ে  আমাদের প্রয়োজনীয় ডেটা পেতে পারি।

 

 

ব্রাউজার এবং সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক বা টুইটার মানুষ এর মাঝে বন্ধন সৃষ্টি  করতে পারে।  তবে আমরা সাধারণত এসব নিজেদের  যোগাযোগের জন্যই ব্যবহার করি। কেমন হত যদি  ইন্টারনেটের মাধ্যমে  দুটি বস্তু একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারত? এক্ষেত্রে প্রথমেই  প্রশ্ন আসে যে দুটি বস্তু নিজেদের মাঝে তথ্য আদান প্রদান করলে লাভ কি?  যদি বস্তুরদের মাঝে যোগাযোগের মাধ্যমে  আমাদের জীবনযাপন সহজ হয়ে যায় বা আমাদের পরিশ্রম কমে যায় তাহলেই আমরা এ থেকে লাভ পাব। আধুনিক প্রযুক্তিবলে সহজেই একটি বস্তু অপর একটি বস্তুর সাথে  যোগাযোগ করে নিজের অবস্থা  জানান দিতে পারে। স্মার্ট সেন্সর ও ইন্টারনেট এবং আরো অনেক মাধ্যমেই সহজেই ডিভাইস দ্রুত তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে কিভাবে আমাদের জীবন আরও সহজ হয়ে উঠতে পারে তা বোঝার জন্য আমরা কয়েকটি উদাহরণ কল্পনা করতে পারি- ইন্টারনেট অব থিংসের মাধ্যমে  সকালে ঘুম থেকে উঠা, স্মার্ট ক্লাসরুম ও স্মার্ট বর্ডার।

বিজ্ঞানী হলডেন বলেছেন,

 “We need science more than ever before”

তাই দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির প্রভাব কে বিশ্বময় সকল শ্রেণীর মানুষ এর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে না পারলে আমাদের মুক্তি নেই।

 

By Taspia Alam Angona

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *