গেমিং বিনোদন নাকি আসক্তি ?

বর্তমান যুগে গেমিং শব্দটা সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ । শিশু বাচ্চা থেকে শুরু প্রাপ্ত বয়স্ক পর্যন্ত সব বয়সের মানুষেরা অবসর সময় পাড় করতে বিভিন্ন ধরনের গেম খেলে থাকে কিন্তু  বর্তমান সময়ে গেম খেলার মধ্যে আমরা ২টি শ্রেনীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছি একটি “গেমিং “ অপরটি “ গেমার “ ।

Pc ও Console গেমিং গত ১ দশকে সারা পৃথিবীতে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে । এই গেমিং এর উপর ভিত্তি করে সারা বিশ্বে অথবা  বিভিন্ন দেশে হচ্ছে  নানান গেমিং প্রতিযোগিতা । এছাড়াও গেমিং এর উপরভিত্তি করে বিভিন্ন কোম্পানি বানাচ্ছে বিভিন্ন দাম ও মানের Consumer ক্যাটাগরির গ্রাফিক্স কার্ড যেমনঃ NVIDIA, AMD ইত্যাদি ।  সেই সাথে হাজারো গেমার এই গেমিং এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুকের পেজ খুলে হাজার হাজার টাকা কামিয়ে নিচ্ছে ।

 

আবার সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা গেমিং আসক্তিকে তাদের International classification of Diseases ( ICD ) তালিকা তে অন্তর্ভূক্ত  করেছে । প্রথমে বলে নেওয়া ভালো WHO ( World Health Organization ) গেমিংকে আসক্তিকে তাদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত শুধুমাত্র আসক্তির বেলাতেই ,অর্থাৎ গেমিংকে নয় ।

WHO গেমিং ডিসঅর্ডার সম্পর্কে বলেছে,

“” Gaming disorder is defined in the draft 11th Revision of the International Classification of Diseases (ICD-11) as a pattern of gaming behavior (“digital-gaming” or “video-gaming”) characterized by impaired control over gaming, increasing priority given to gaming over other activities to the extent that gaming takes precedence over other interests and daily activities, and continuation or escalation of gaming despite the occurrence of negative consequences (WHO) “”

 

এখানে আমরা কিছু জিনিষ লক্ষ্য করতে পারি।

১. তারা বলেছে “Impaired control over gaming “, অর্থাৎ এমন একটা অবস্থা যখন গেম খেলা বা না খেলাত উপর নিজের ইচ্ছের নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। যখন মানুষ সেই অভ্যাসটার প্রতি অনিয়ন্ত্রিতভাবে নির্ভর হয়ে পড়ে।

২. “Increasing priority given to gaming over other activities“, অর্থাৎ গেমিংকে প্রাধান্য দিতে দিতে এমন একটা অবস্থায় চলে যাওয়া যে আপনি নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজগুলোকে হেলা করা শুরু করছেন সেদিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে। একটা উদাহরণ দিয়েই নাহয় বলি : আপনি গেম খেলেন ভাল কথা, মাঝেমধ্যে পাঁচ ছয় ঘণ্টা খেলেন তাও ভাল কথা, কিন্তু দেখা গেল আসতে আসতে আপনার গেম খেলাটা এত বেশি ভাল লাগতে লাগলো যে আপনি প্রতিদিনই পাঁচ ছয় ঘণ্টা করে বা তারো বেশি খেলছেন। খেলার সময় বাবা বা মা ডাকতে আসলে নিজের অজান্তেই দাঁত খিটমিটিয়ে দুর্ব্যবহার করে বসছেন। শুধু তা ই না, খেতে ডাকলে ঠিকমত খাচ্ছেন না। এবং আপনার পড়ার সময়গুলোও দিয়ে দিচ্ছেন গেমিংয়ে। সেভাবে না পোষালে রাত জাগছেন, দুইটা, তিনটা এমনি চারটা পাঁচটা বাজেও ঘুমাচ্ছেন। আপনার কম ঘুম ক্রমাগত আপনার স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে যাচ্ছে অপরদিকে আপনার এমন দুর্ব্যবহার আপনার পরিবারের মনে ক্রমাগত হতাশা বাড়িয়েই যাচ্ছে। আপনি একে একে প্রতিটা প্রয়োজনীয় কাজ থেকেই সময় কেটে সেগুলো গেমিংয়ের পেছনে দিয়ে দিচ্ছেন। আবার দীর্ঘক্ষণ গেমিং করার পর দেখা গেল আপনার খারাপ লাগছে, কেমন যেন হাহাকারবোধ করছেন।
এইসবই হচ্ছে অস্বাভাবিক ব্যাপার। সেগুলো দীর্ঘদিন কারো বেলায় চললে তার সুস্থস্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও মান খুব ভালভাবেই ব্যহত হবে। আর তাই একে দীর্ঘদিন চললে অস্বাভাবিক মানসিক আচরণ বললে মোটেও ভুল বা বাড়িয়ে বলা হবেনা।

৩. “Continuation or escalation of gaming despite the occurrence of negative consequences.” অর্থাৎ ক্ষতিকর ফলাফল বা পরিণতির সম্মুখীন হওয়া সত্বেও একই আচরণ চালিয়েই যাওয়া।
আর এই অংশটাই কিন্তু একটা আচরণকে ভারসাম্যহীন এর দিকে ইঙ্গিত করার জন্যে যথেষ্ট। হ্যা, সাময়িকভাবে এমন কিছু ঘটলেই যে তা আসক্তি আর মানসিক ভারসাম্যের দিকে নির্দেশ করবে তা না। তবে একই অস্বাভাবিক অবস্থা যখন সুদীর্ঘ সময়ের জন্যে চলতেই থাকে তখন তা খুব স্বাভাবিকভাবেই মানসিক সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। আর চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান ও অস্বাভাবিক মনোবিজ্ঞানের নিয়মানুযায়ী হুটহাট করেই কোনোকিছুকে মানসিক রোগ/মানসিক সমস্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে ফেলা হয় না। নির্দিষ্ট ব্যক্তির অবস্থা, পরিবার, সমাজ, নৈতিক ও অন্যান্য শিক্ষা ইত্যাদির স্বাপেক্ষে খুব ভালভাবে বিবেচনা করে ও আচরণের পুনরাবৃত্তির হিসেব করে তখনই তেমন একটা সিদ্ধান্তে পৌছানো হয়।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন WHO গেমিং কে মোটেও মানসিক রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি, করেছে সেটার চুড়ান্ত মাত্রার আসক্তিকে। শুধু তাই নয় সেই আসক্তি তাদের শ্রেণিভুক্ত করা ডিসঅর্ডারে পড়ে কিনা সেজন্যে পূর্ণ যাচাই বাছাই স্বাপেক্ষে আসক্ত ব্যক্তির ১২ মাসের কার্যনামা পর্যবেক্ষণ করে তবেই সুনিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।

 

এখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে কি গেমিং বিনোদন নয় ?

 

গেমিং অবশ্যই বিনোদনের জন্য । শুধু বিনোদন নয়। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বহু অসুস্থ আর অরুচিকর বিনোদনের মধ্যে গেমিং অন্যতম নিরাপদ আর ভাল বিনোদন। উঠতি বয়েসী ছেলেরা বিনোদনের খোড়াক হিসেবে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়, সবসময় সব আড্ডা বা সঙ্গ যে ভাল থাকে না তা বলা বাহুল্য। অনেকসময় অনেক বাজে সঙ্গতে পড়ে কারো সন্তান, কারো ভাই বা বোন নষ্ট হয়ে যেতে পারে এটা বলা বাহুল্য। এক্ষেত্রে সবচাইতে বড় ঝুঁকি হচ্ছে মাদকাসক্তি। একবার কেউ এই নেশায় পড়ে গেলে বের হওয়া খুব কঠিন। অপরদিকে আমাদের দেশে প্রেক্ষাপটে ভাবতে গেলে স্কুল পেরিয়ে পরবর্তী ধাপে আবার ছাত্ররাজনীতি নামের এক আজব বস্তুর দেখা মেলে, যার প্রাদুর্ভাব নিজের এবং নিজের চাইতেও বেশি অন্যদের জন্য কতটা হানিকারক তা বলা বাহুল্য।

 

এবার গেমিং এর কিছু উপকারী দিক গুলো দেখে নেওয়া যাকঃ

 

২০১৪ সালে প্রকাশিত American Journal of play এর একটি সংখ্যায় তিন গবেষক Adam Eichenbaum, Daphne Bavelier, ও C. Shawn Green এর গবেষণার সারমর্ম প্রকাশ করা হয় যেখানে গেমিংয়ের দীর্ঘস্থায়ী সুফল হিসেবে প্রত্যক্ষণ (Perception), মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতার বিষয়টি উঠে আসে। এসবই মূলত বেশি দেখা দেয় একশন জনরার গেম খেলার মধ্যে। দেখা গেল গেমগুলো খেলার মাধ্যমে তারা খুব দ্রুত কোথাও Focus করতে পারছে, দৃষ্টিশক্তির সূক্ষ্মতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, খুব সহজেই অনেককিছু মনে রাখতে পারছে এবং একাধিক বিষয়গুলোর মধ্য থেকে খুব সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত বেছে নিতে পারছে।

 

এছাড়াও সময় সময়ে নানা গবেষণায় গেমিংয়ের কৌশল ও কর্মদক্ষতামূলক উপকারীতাসমুহ উঠে এসেছে। নীচে কতিপয় গবেষণাসমুহের ফলাফল এর সারসংক্ষেপ দেয়া হল।

. দেখে অনুধাবন করার ক্ষমতা বাড়ায়।

Li এর করা গবেষণায় (২০০৯) দেখা গেল ১০-১২ সপ্তাহ জুড়ে ৫০ ঘণ্টার গেমিংয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

Li ও তার সহকর্মীদের করা ২০১১ সালের আরেক গবেষণায় দেখা গেল পরিমিত গেমিং Lazy Eye Disorder কে সাড়িয়ে তুলতে এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরি সাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করছে।

২. মনোযোগ সতর্কতা বৃদ্ধি

২০০৫ সালের একটি গবেষণায় এসেছে একশন গেমিং ইন-গেম ও বাস্তব উভয় ক্ষেত্রেই কোনো গতিশীল বস্তুকে সূক্ষ্মভাবে নজর রাখার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। এবং তা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, উভয়ের ক্ষেত্রেই হয়।

২০০৯ সালের Dye, Green, ও Bavelier এর করা আরেকটি গবেষণায় এসেছে একশন গেম আবেগীয় প্রক্রিয়ারও উন্নতি সাধন করে থাকে। স্বাপেক্ষ ও অস্বাপেক্ষ উদ্দীপকসমুহের প্রতি প্রতিক্রিয়া নির্ণয়ের মাধ্যমে ব্যাপারটি তাদের সামনে আসে।

Green ও Bavelier এর করা ২০১২ সালের আরেকটি পরীক্ষণে উঠে আসে একশন গেমিং খেলোয়াড়দের খুব দ্রুত লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করা, শনাক্ত করা ও অনেকগুলো উদ্দীপকের মাঝ থেকে আলাদা করারয় খুব সাহায্য করে ও এই ক্ষমতার উন্নতি সাধন করে থাকে।

দিকভ্রান্তি বা Dyslexia’র ব্যাপারে আমরা অনেকেই হয়তো জানি। বিখ্যাত শিল্পী, আচার্য, প্রকৌশলী ও বহুগুণি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চিরও এই সমস্যা ছিল। আবার অনেকের দেখা “তারে জামিন পার” ছবির ছোট্ট শিশুটারো এই সমস্যা থাকে। মজার ব্যাপার হচ্ছে ২০১৩ সালে করা Franceschini’র এক পরীক্ষণে ধাপে ধাপে ১২ ঘণ্টা ভিডিও গেম খেলিয়ে দেখা গেল তাতে করে দিকভ্রান্তি সমস্যার অনেকখানি উন্নতি সাধিত হয়। এমনকি অবস্থার এই পরিবর্তন ছিল Dyslexia Treatment Program এর চাইতেও বেশি কার্যকরী!

৩. কার্যনির্বাহী দক্ষতা বৃদ্ধি

কার্যনির্বাহী দক্ষতা বলতে দ্রুত ও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ওর এর সাথে সম্পৃক্ত মনোযোগ, প্রত্যক্ষণ ও স্মৃতিশক্তিকে বুঝায়।
২০১৪ সালে Chiappi ও তার সহকর্মীদের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে পর্যায়ক্রমে বিভক্ত ৫০ ঘণ্টার গেমিংয়ে খেলোয়াড়দের একই সময়ে একাধিক কাজ সামলানোর দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। Multi-Attribute Task Battery নামক এই টেস্ট টি ছিল মূলত বিমান চালনার কৌশলাদি নিয়ে। বিমান চালনা অত্যন্ত জটিল একটি কাজ এবং এধাঁচের কাজেতে একই সময়ে একাধিক বিষয়ের উপর লক্ষ্য ও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হয়। গবেষণার ফলাফলে কৌশলগুলোতে তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

Anderson এর ২০১০ সালে Green এর ২০১২ ও Colzato এর ২০১৪ সালে করা আরেক গবেষণায় দেখা যায় যে একশন গেম মানুষকে সহজেই এক কাজ থেকে আরেক কাজে (Task) ঢুকে যেতে সহায়তা করা যা একটা আরেকটার সাথে সাংঘর্ষিক বা ভাবগত বা গঠণগত দিক দিয়ে অনেকটাই একটা আরেকটার বিপরীত। এতে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

এছাড়াও গেমিং কর্মদক্ষতামূলক স্মৃতি, হস্তসঞ্চালনে দক্ষতা ইত্যাদি (Basek ২০০৮) বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৪. কর্মক্ষেত্রে

একাধিক পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণে দেখা গেল গেমিং হস্তসঞ্চালন ও দক্ষতাভিত্তীক (Cognitive) কাজে পেশাদারী ক্ষেত্রেও অনেক সহায়তা করে থাকে।
যেমন MKinley’র ২০১১ সালে করা পরীক্ষণে দেখা গেল গেমিং এর ফলে (একশন গেমিং) মানুষের ড্রোন কপ্টার নিয়ন্ত্রণ ও পাইলট এর বিভিন্ন কার্যপদ্ধতি সামলানোর দক্ষতা সাধারণ মানুষদের চাইতে অনেক বেশি আর সাবলীল হয়ে থাকে।

 

 

সবশেষে বলা যায় সবকিছুরই ভালো এবং খারাপ দিক রয়েছে আপনি যদি গেমার হয়ে থাকেন তাহলে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার পার্থক্যগুলো নিজেই ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবেন । হ্যা, মাত্রাতিরিক্ত গেম খেলা, প্রয়োজনীয় কাজ ফেলে রেখে গেম খেলা এবং রাতের পর রাত ঘুম হারাম করে গেম খেলা কোনো হিসেবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এরুপ বিচ্ছিন্ন ঘটনা আলাদা বিষয়। কিন্তু এসবের পুনরাবৃত্তি আসক্ত ব্যক্তির জন্যে সবদিক দিয়েই অকল্যাণকর, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভারসাম্যহীন মানসিক অবস্থার নিদর্শন। পাশাপাশি তখন তা মানুষকে বিষণ্ণতার মাঝেও ফেলে দেয়। তাই গেমিং পরিমিত মাত্রায় এবং বিনোদনের উপায় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখাটাই উত্তম। যদি দেখুন গেমিং এর কারণে আপনি বা আপনার পরিচিতজন পরিবারের সাথে দুর্ব্যবহার করছে, সেক্ষেত্রে ঠাণ্ডা মাথায় বিষয়টা বুঝুন বা বুঝান।

 

মানুষ গেম বিনোদনের জন্যই খেলে থাকে পার্থক্য বিনোদোনটা ভিন্নধর্মী আর নানাদিকে উপযোগী । একে সাধারন মানুষের কথা শুনে জঙ্গি তৈরির কারখানা ভেবে বসবেন না ।

 

সর্বশেষ আমার কথা হলো গেম শুধুমাত্র বিনোদনের জন্যই খেলবেন তাও সাময়িক সময়ের জন্য ।এমন ভাবে গেম খেলবেন না যাতে করে নিজের উপরই নিয়ন্ত্রন হারিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে বসবেন ।

 

তথ্যসূত্রঃ বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহিত পরিমর্জিত

By  শেখ মুহাম্মাদ আশিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *