IVEP প্রযুক্তিতে জোড়া বাছুর উৎপাদনে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের সাফল্য

কৃত্রিম প্রজননে গবাদি পশুর চাহিদা মেটাতে ১৯৭৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে ১৯৭৬-১৯৭৭ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৭৮২টি গরুর বাছুর উৎপাদন করা হলেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬০৮টি বাছুর উৎপাদিত হয়েছে।

কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার করে সুস্থ গাভীর মাধ্যমে প্রজনন করে বাছুর উৎপাদন করা হয়। দেশের গবাদি পশুর জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার’ জাতীয় গো-প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাভারে ৭৯২ দশমিক ৮৭ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে এ খামার।

সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে বিভিন্ন জাতের মোট ব্রিডিং ষাঁড় রয়েছে ১৫৬টি। একটি ষাঁড় থেকে সাধারণত একবারে ৫০০ ডোজ সিমেন সংগ্রহ করা হয়। দেশীয় গবাদি পশুর জাতের ক্রমোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সুপিরিয়র বুল কাফ’ পালনের মাধ্যমে উন্নত প্রজনন ষাঁড় থেকে ‘সিমেন’ সংগ্রহ করা হয়। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী সারাদেশে খামারিদের নিকট এ সিমেন সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশে এখন মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে যে, দেশে গরুর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। বাংলাদেশে দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংসের বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে ১২৬.২০ গ্রাম মাংসের যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাধারণত একটি গাভী বছরে একটি বাছুর জন্ম দেয়।কিন্তু বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা প্রযুক্তিতে সাফল্য পাওয়ার দাবি করছেন। IVEP প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গাভী একসাথে দুটি বাছুর জন্মদান করতে সক্ষম হবে।

ড. গৌতম কুমার দেব (সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, সাভার, ঢাকা)বলেছেন,

“এ প্রযুক্তিটির নাম In Vitro Embryo Production বা IVEP। তবে এটিকে কেউ কেউ আইভিএ-ও বলে থাকেন।

দুই বছর আগে এই পদ্ধতিতে একটি গাভীর থেকে দুইটি বাছুর একসাথে জন্মদানের গবেষণায় সফল হন বিজ্ঞানীরা। গতবছর আরও একটি গাভী জোড়া বাছুর জন্মদানে সফল হন তারা।এই প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে আমরা নিয়ে যাচ্ছি এবং সফল হলে এই প্রযুক্তি গরু সম্পদের বিপ্লব ঘটাবে।

এ পদ্ধতিতে বেশি দুধ দেয় এমন গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে নেয়া হয়। সেখানে ডিম্বাণুকে পরিপক্ব, নিষিক্তকরণ এবং কালচার শেষে তা ভ্রূণে পরিণত করানো হয়। এর ফলে যে ভ্রূণের জন্ম হয়
গবেষণাগারে সেখান থেকে দুটি করে ভ্রূণ
সাতদিন ল্যাবে থাকার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও কম দুধ দেয় এমন গাভীর জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়।এরপর নির্ধারিত সময়ে ভ্রূণ বেড়ে উঠে ১০ মাস আগে-পরে দুইটি বাছুর প্রসব করে। এভাবে গাভী গর্ভধারণ করলেই দুটি করে বাচ্চা বাড়তে থাকবে।একটি সুস্থ ও ভালো মানের গাভীর ডিম্বাণু দিয়ে অনেকগুলো গাভীর গর্ভধারণ করানো সম্ভব হবে।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার বলেছেন,” বিশ্বের নানা দেশ থেকে উন্নত জাতের ষাঁড় সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ষাঁড়ের জাত কৃষক ও খামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান,
” খামারে উৎপাদিত উন্নত প্রজনন ষাঁড় থেকে কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগারে সিমেন সংগ্রহ করা হয়। এর পর প্রক্রিয়াজতকরণ ও সংরক্ষণ করে জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ২১ টি জেলায় এখন কেন্দ্র আছে। সেখান থেকে চাহিদার মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়। দেশব্যপী কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যহত রয়েছে।আগামীতে ৬০ টি জেলাতে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ”

সিমেন উৎপাদনের তথ্য জানিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, “২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭৩৬ সিসি তরল সিমেন উৎপাদন হয়েছে। আর হিমায়িত সিমেন উৎপাদন হয়েছে ৪১ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৬০ সিসি।”

ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে কৃত্রিম প্রজনন বলে।

সাধারণত একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী প্রজনন করানো যায়। স্বাভাবিকভাবে একটি ষাঁড় সর্বমোট ৭০০ থেকে ৯০০টি বাছুর প্রসবে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে এখন যদি গবেষকরা একটির বদলে দুটি বাছুর জন্ম দেয়ার কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফল হন তাহলে গরু উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রানতুষ★★★ IVEP প্রযুক্তিতে জোড়া বাছুর উৎপাদনে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের সাফল্য। ★★★

কৃত্রিম প্রজননে গবাদি পশুর চাহিদা মেটাতে ১৯৭৬ সালে কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ। কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে ১৯৭৬-১৯৭৭ অর্থবছরে ২৬ হাজার ৭৮২টি গরুর বাছুর উৎপাদন করা হলেও ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬০৮টি বাছুর উৎপাদিত হয়েছে।

কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার করে সুস্থ গাভীর মাধ্যমে প্রজনন করে বাছুর উৎপাদন করা হয়। দেশের গবাদি পশুর জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার’ জাতীয় গো-প্রজনন কেন্দ্র হিসাবে এ কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাভারে ৭৯২ দশমিক ৮৭ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে এ খামার।

সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে বিভিন্ন জাতের মোট ব্রিডিং ষাঁড় রয়েছে ১৫৬টি। একটি ষাঁড় থেকে সাধারণত একবারে ৫০০ ডোজ সিমেন সংগ্রহ করা হয়। দেশীয় গবাদি পশুর জাতের ক্রমোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সুপিরিয়র বুল কাফ’ পালনের মাধ্যমে উন্নত প্রজনন ষাঁড় থেকে ‘সিমেন’ সংগ্রহ করা হয়। পর্যায়ক্রমে চাহিদা অনুযায়ী সারাদেশে খামারিদের নিকট এ সিমেন সরবরাহ করা হয়।

বাংলাদেশে এখন মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে যে, দেশে গরুর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। বাংলাদেশে দৈনিক ১২০ গ্রাম মাংসের বার্ষিক চাহিদার বিপরীতে ১২৬.২০ গ্রাম মাংসের যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সাধারণত একটি গাভী বছরে একটি বাছুর জন্ম দেয়।কিন্তু বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা প্রযুক্তিতে সাফল্য পাওয়ার দাবি করছেন। IVEP প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গাভী একসাথে দুটি বাছুর জন্মদান করতে সক্ষম হবে।

ড. গৌতম কুমার দেব (সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট, সাভার, ঢাকা)বলেছেন,

“এ প্রযুক্তিটির নাম In Vitro Embryo Production বা IVEP। তবে এটিকে কেউ কেউ আইভিএ-ও বলে থাকেন।

দুই বছর আগে এই পদ্ধতিতে একটি গাভীর থেকে দুইটি বাছুর একসাথে জন্মদানের গবেষণায় সফল হন বিজ্ঞানীরা। গতবছর আরও একটি গাভী জোড়া বাছুর জন্মদানে সফল হন তারা।এই প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে আমরা নিয়ে যাচ্ছি এবং সফল হলে এই প্রযুক্তি গরু সম্পদের বিপ্লব ঘটাবে।

এ পদ্ধতিতে বেশি দুধ দেয় এমন গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে নেয়া হয়। সেখানে ডিম্বাণুকে পরিপক্ব, নিষিক্তকরণ এবং কালচার শেষে তা ভ্রূণে পরিণত করানো হয়। এর ফলে যে ভ্রূণের জন্ম হয়
গবেষণাগারে সেখান থেকে দুটি করে ভ্রূণ
সাতদিন ল্যাবে থাকার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও কম দুধ দেয় এমন গাভীর জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়।এরপর নির্ধারিত সময়ে ভ্রূণ বেড়ে উঠে ১০ মাস আগে-পরে দুইটি বাছুর প্রসব করে। এভাবে গাভী গর্ভধারণ করলেই দুটি করে বাচ্চা বাড়তে থাকবে।একটি সুস্থ ও ভালো মানের গাভীর ডিম্বাণু দিয়ে অনেকগুলো গাভীর গর্ভধারণ করানো সম্ভব হবে।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আব্দুল জব্বার শিকদার বলেছেন,” বিশ্বের নানা দেশ থেকে উন্নত জাতের ষাঁড় সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব ষাঁড়ের জাত কৃষক ও খামারি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান,
” খামারে উৎপাদিত উন্নত প্রজনন ষাঁড় থেকে কৃত্রিম প্রজনন গবেষণাগারে সিমেন সংগ্রহ করা হয়। এর পর প্রক্রিয়াজতকরণ ও সংরক্ষণ করে জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে ২১ টি জেলায় এখন কেন্দ্র আছে। সেখান থেকে চাহিদার মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়। দেশব্যপী কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ অব্যহত রয়েছে।আগামীতে ৬০ টি জেলাতে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ”

সিমেন উৎপাদনের তথ্য জানিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, “২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭৩৬ সিসি তরল সিমেন উৎপাদন হয়েছে। আর হিমায়িত সিমেন উৎপাদন হয়েছে ৪১ লক্ষ ৩৭ হাজার ২৬০ সিসি।”

ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে কৃত্রিম প্রজনন বলে।

সাধারণত একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী প্রজনন করানো যায়। স্বাভাবিকভাবে একটি ষাঁড় সর্বমোট ৭০০ থেকে ৯০০টি বাছুর প্রসবে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে এখন যদি গবেষকরা একটির বদলে দুটি বাছুর জন্ম দেয়ার কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফল হন তাহলে গরু উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো যাবে বলে আশা।

By প্রানতুষ পাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *