লিকুইড ইনসাইড ওয়াচ

মেহেরাব হাসছে। বুক থেকে অচির ধারায় রক্ত বইছে। মৃত্যু খুবই সন্নিকটে। তবুও সে খুশি। পাশেই ওর বাবা সাব্বির সাহেব বসা। ছেলের মৃত্যুঘন্টা বাজার অপেক্ষা করছেন। সে এক মর্মান্তিক দৃশ্য।

কয়েক মাস আগের কথা….

সাব্বির রহমান, একজন ডাক্তার। কিন্তু তার ডাক্তারি পেশাটা তার স্ত্রী ছাড়া কেউ জানতো না। প্রকাশ্যে সবাই তাকে একজন মামুলী পুলিশ অফিসার ভাবতো। তিনি নিজেও নিজেকে সেভাবে চালাতেন। দুইটা রূপ তার। চট্টগ্রামে তাদের বসবাস। তাদের বাড়ি ৫তলা ভবন। কিন্তু সাব্বির সাহেবের ল্যাবরেটরি ছিল মাটির নিচে। বলা যায় আন্ডারগ্রাউন্ড ল্যাব। সেখানেই সব রিসার্চ করতেন। ল্যাবরেটরিটা ওনার খুব প্রিয় ছিল। তিনি এর নাম রেখেছিলেন Ru+2027। তো তিনি দিনের বেলা পুলিশের ডিউটি করতেন। রাতে রিসার্চ।

সাব্বির সাহেবের একমাত্র ছেলের নাম মেহেরাব। একটু বখাটে টাইপের। নেশা করতো। সাব্বির সাহেব এসব একদমই পছন্দ করতেন না। আর তিনি মেহেরাবকে কিছু বলতেনও না।

সাব্বির সাহেবের একটি মেয়েও ছিল। নাম মিতা। খুবই লক্ষী। ভার্সিটিতে পড়তো।

একজন ডাক্তার হিসেবে তার আরও অনেক ডাক্তারদের সাথে পরিচিতি ছিল। তো কিছুদিন পর তার পুলিশ উপরমহল থেকে ডাক পড়লো। সাব্বির সাহেব গেলেন। পুলিশ সুপার সহ মোট ৫০ জন অফিসার মিটিংয়ে ছিলেন। মিটিং এ পুলিশ সুপার বলেন, “”শুনোন সবাই। ইদানীং আমাদের এই এরিয়াতে ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু অপরাধীদের শনাক্ত করা পসিবল হচ্ছে না। সাম্প্রতিক কেসগুলো ঘেটে দেখলাম, সেগুলো গণধর্ষন, এবং একই মানুষেরা করছে। তো আমি বাংলাদেশদের টপ সাইন্টিস্টদের সাথে আলাপ করেছি। যে কি করলে মেয়েরা নিরাপত্তা পাবে?  এমন কোন গেজেট বা মেডিসিন বা যেকোন কিছু থাকতো, যা মেয়েরা সবসময় পাশে রাখবে। ধর্ষকরা এলে তারা সেটা ব্যবহার করবে। তারা তাদের বেস্টটা দিবে। আর সাথে আমাদেরকেও সোচ্চার হতে হবে। আমি আপনাদেরকে টিমে ভাগ করে দিচ্ছি। আপনারা সিটির বিভিন্ন এরিয়াতে ক্যাম্পেইন করবেন। আর ওই গ্রুপটাকে পাকড়াও করবেন। “” এটা বলে পুলিশ সুপার সব অফিসারদের টিমে ভাগ করলেন। সাব্বির সাহেব টিম-H এর হেড হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। তার ক্যাম্পেইন পড়লো তার মেয়ে মিতার ভার্সিটির সামনে। ওইদিনের কনফারেন্স শেষ করে সাব্বির সাহেব বাসায় ফিরলেন।

বাসায় ফিরে সাব্বির সাহেব ফ্রেশ হলেন। তারপর ল্যাবে গেলেন। ল্যাবে তার ল্যাপটপে কিছু মেইল দেখলেন। সাব্বির সাহেব যা ভাবলেন তাই। পুলিশ সুপার যে সাইন্টিস্ট টিমকে দায়িত্ব দিয়েছেন সেই টিমের সবাই সাব্বির সাহেবকে চিনেন। আর সাব্বির সাহেব ওই টিমের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র সাইন্টিস্ট। মেইলে দেখলেন তার সহকারীর বার্তা, “” স্যার চট্টগ্রাম পুলিশ ডিপার্টমেন্টের হেড আমাদের একটা মিশন দিয়েছেন। সম্পূর্ণ মেইলের সারসংক্ষেপ ছিল ওই মিশনের লিডার সাইন্টিস্ট সাব্বির সাহেব। তাকেও কাজ করতে হবে। তো সাব্বির সাহেব দুই জায়গায় টিমের লিডার। সাব্বির সাহেব ল্যাব ছেড়ে রুমে আসলেন। এসে ঘুমালেন।

ঘুম থেকে উঠলেন। নাস্তা করে ল্যাবে গেলেন। গিয়ে রিসার্চ শুরু করলেন। তিনি ভাবতে লাগলেন কি এমন সাইন্টিফিক মেথোড ব্যবহার করলে ধর্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভাবতে লাগলেন। তিনি টিমের অন্যান্য সাইন্টিস্টদের সাথে মিটিং করলেন। তাদের  একমাসের সময় দিলেন।এদিকে পুলিশ ইউনিটে ডিউটি করছেন।

একমাস পর….

বিকাল ৪.৩০ টা। সাব্বির সাহেব ল্যাবে। কিছু এসিড নিয়ে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে ফোন আসলো। ফোন করেছিলেন তার সাইন্টিস্ট টিমের একজন। নাম, ডা. ফারুক আহমেদ। ফোন করে বললেন, স্যার আমি একটা থিউরি বের করেছি। আপনার কাছে যুক্তিগত মনে হলে ট্রাই করতে পারেন। সাব্বির সাহেব সম্মতি দিয়ে ফোন কাটলেন। ফারুক সাহেব থিউরিটা মেইল করলেন। সাব্বির সাহেব থিউরি দেখে অবাক। একদম পারফেক্ট। এটাই চাই। তিনি তার টিম Sci-5M কে নির্দেশ করলেন, “”আমরা যথাযথ থিউরি পেয়ে গেছি। কাল সবাই আমার ল্যাবে সকাল ৮ টায় উপস্থিত থাকবেন। আর ধন্যবাদ ফারুক সাহেব। “” বলে থামলেন। থিউরিটা নিয়ে ভাবতে লাগলেন। কি কি যন্ত্রপাতি লাগবে, কোন কেমিক্যাল লাগবে লিস্ট করলেন। পরদিন সকালে সবাই আসলেন। সবাই বসলো। তারপর সাব্বির সাহেব আসলেন।সাব্বির সাহেব বললেন, “” ফারুক সাহেব। আপনার থিউরিটাই পারফেক্ট। এতেই কাজ হবে। “” ফারুক সাহেব খুশি হলেন। তারপর সাব্বির সাহেব থিউরিটা সবাইকে ব্যাখ্যা শুরু করেন। তিনি বলেন, “” ধর্ষকরা বলেকয়ে আসবে না। তাই মেয়েদের আগে থেকেই এই ডিভাইস আর লিকুইড ব্যবহার করতে হবে। ডিভাইসটা ঘড়ির মতো। ঘড়িতে চতুর্দিকে সুইচ থাকবে। এই ঘড়ির মাঝে একটা হোল থাকবে।যেটা তীব্র এসিডে ভরা থাকবে। যখনি ধর্ষকরা মেয়ের কাছে আসবে তখনই মেয়েটি ওই সুইচে ক্লিক করলে এসিড স্প্রে হবে,

যেটা ধর্ষকদের গায়ে ছিটকে পরবে এবং এতে ধর্ষকদের চামড়া নষ্ট হবে। ওই ঘড়িতে ট্র্যাকিং জিপিএস থাকবে। সুইচে ক্লিক করলে পুলিশরা সেটা ট্র্যাক করে অতি শীর্ঘই কাছের ইউনিটকে পাঠাবে। আর তখনি পুলিশেরা ওই স্থানে পৌছে ধর্ষকদের ধরবে। “” একজন প্রশ্ন করলো, স্যার তাহলে এসিড তো মেয়ের উপরে পড়বে।তখন মেয়েটার কি হবে? সাহেব উত্তর দিলেন, “” এর জন্য কাজ করবে লিকুইড বা লোশন। একটা লোশন আমাদের তৈরি করতে হবে তেজস্ক্রিয় মৌল দ্বারা যেটা ওই এসিডকে বিনষ্ট করবে। মেয়েরা ওই লোশন বাসা থেকে বের হবার আগে গায়ে ভালো করে মেখে যাবে। তাহলেই আর এসিডে সমস্যা হবে না “”। সবাই ফারুক সাহেবের জন্য করতালি দিল। সাব্বির সাহেব পরে বলেন, এটা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ১মাস সময়। এর মধ্যে আমার ওই ঘড়ি আর লিকুইড চাই। সবাই সম্মতি দিল। তারপর কাজ শুরু। ঘড়ি তৈরি করা হলো। এর নাম দেয়া হলো Anti_Rape_Watch_055। লোশনটাও বানানো হলো। নাম হলো Anti^Rape^Lotion^198।

একমাস পর….

লোশন, ঘড়ি রেডি। দুটোর প্রায় ১০০ পিস করে বানানো হলো। এখন টেস্ট করার সময়। সাব্বির সাহেবকে তার মেয়ে একদিন বলেছিল, বাবা রাস্তায় অনেক বাজে ছেলেরা থাকে সেখানে আমি ভাইয়াকে দেখেছি। সাব্বির সাহেব বললেন, ঠিক আছে যাও। রাতে আমার রুমে একবার এসো। রাতে মিতা রুমে গেল। লোশন আর ঘড়ির ব্যাপারে সব বললেন। এটাও বললেন প্রথম টেস্ট মিতাকেই করতে হবে। মিতা রাজি হলো। মিতা ওর বান্ধবী রিতার কথা সাব্বির সাহেবকে বলে।সাব্বির সাহেব বললেন, তাহলে তোমরা দুজন এটা ব্যবহার করবে। মিতা রুম থেকে চলে আসলো। মিতা ওর রুমে এসে রিতাকে কল করলো। রিতাও রাজি

। তো একসপ্তাহ পর। পুলিশ ইউনিটরা ট্র্যাকিং মিটার নিয়ে রেডি। রিতা, মিতা যথারীতি লোশন মেখে ঘড়িটা হাতে পড়ে নিল। সাব্বির সাহেব বললেন, “ঠাণ্ডা মাথায় ঠিক আছে। লোশন ১২ ঘন্টা কাজ করবে। তোমরা ভয় পাবে না। ভার্সিটির পাশেই পুলিশ ইউনিট রেডি। কিছু হলেই তারা আসবে। ” ওরা তৈরি। বিকেলে বের হলো ওরা। রাস্তায় ওইদিন মেহেরাব ছিল। ওরা যাওয়ার সময় বাজে ছেলেগুলো নানানভাবে ওদের হয়রান করে। সবাই ট্র্যাকিং মিটারে এসব দেখে। মেহেরাব মাতাল ছিল। তাই ওর বোনকে খেয়াল করেনি। রাতে যখন ওরা ফিরছিল তখন আবার ছেলেরা আসে। মেহেরাবও ছিল। তো ছেলেরা ওদের উতক্ত শুরু করে। একসময় গায়ে হাত দেয়। রিতা, মিতা চিৎকার শুরু করে। ছেলেগুলো ওদের দুজনেকে ভোগ করার স্বপ্ন দেখছিল।

পরক্ষনে রিতা ও মিতার ঘড়িতে দুটো ছেলে সুইচে ক্লিক করে। সাথে সাথে এসিড স্প্রে হয়। মেহেরাবের বুকে এসিড পরে । মেয়েরা দৌড় দেয়। এসব দেখে ট্র্যাকিং ইউনিট জলদি আসে। রিতা মিতা নিরাপদ হয়। পুলিশ ওদের গ্রেফতার করতে আসে। তখনই ডা. সাব্বির মেহেরাবকে দেখে। মেহেরাব হাসছে। বুক থেকে অচির ধারায় রক্ত বইছে। মৃত্যু খুবই সন্নিকটে। তবুও সে খুশি। পাশেই ওর বাবা সাব্বির সাহেব বসা। ছেলের মৃত্যুঘন্টা বাজার অপেক্ষা করছেন। সে এক মর্মান্তিক দৃশ্য। বাবাকে মেহেরাব বললো,” বাবা আমি পাপী। নিজের বোনের সাথে এসব করেছি। আমার জন্য মৃত্যুই ঠিক। আমাকে ক্ষমা করো। এভাবেই ধর্ষকদের শাস্তি হোক। বিদায় বাবা। ” মেহেরাব শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো। ডা. সাব্বির পাশে থেকে উঠে চলে গেলেন।

 

পরবর্তী পুলিশ ডিপার্টমেন্ট সেমিনারে ডা. সাব্বিরকে পুরষ্কৃত করা হয়। কিন্তু ওনার মুখ ছিল ভার। ওনাকে যখন কথা বলতে দেয়া হলো ওনি এতটুকুই বললেন, Science is a huge platform but when it comes to our real life It’s risky. Can take lives away. If we misuse this, it happens but Your creation may have blessed others, Alas! Its blessings may burn your own house too. এটা বলেই ওনি চলে আসেন।

আসলেই আজ ডা. সাব্বির যেখানে সফল অথচ নিজের জীবনের একটি অংশ হারালেন চিরদিনের জন্য। অপকর্মের ফল পেতেই হয়। সেটা আজ হোক নাহয় কাল। ধর্ষণের প্রকোপ দেশে খুবই বেড়েছে। তাই এই প্রযুক্তি নারীদেরকে অনেকাংশে সাহায্য করবে বলে আশা করেন ডা. সাব্বির।

আমি এ ফিকশনের লেখকও এটা আশা করি যে ডা. সাব্বিরের মতো কেউ এমন কিছু করুক যাতে দেশের নারীরা নিরাপত্তা পায়। চেষ্টা করলে অসম্ভব কিছুই নয়।

ধন্যবাদ।

By শাহিদুল আমিন রাকিব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *