Raspberry Pi : কম্পিউটার জগতের আলোড়ন

কেমন হয় যদি আমরা আমাদের সাথে করে কম্পিউটার নিয়ে ঘুরি? অনেকে বলবে আজকাল তো মোবাইলই একটা কম্পিউটাররের মতন কাজ করে। কিন্তু পার্থক্য তো থেকেই যায়। মোবাইলে তো আর এডভান্সড প্রোগ্রামিং করা যায় না। তাহলে উপায়? এই সমস্যার সমাধান দিতেই সিংগেল বোর্ড কম্পিউটারের উদ্ভব।

সিংগেল বোর্ড কম্পিউটারের কথা উঠলেই বর্তমানে জনপ্রিয় Raspberry Pi এর কথা বলতে হয়। Odroid,Banana pi,Nanopi,UODO,Asus TinkerBoard ইত্যাদি কোম্পানী থাকতেও Raspberry Pi কেনো? এর উত্তর জানতে হলে আমাদের জানতে হবে সিংগেল বোর্ড কম্পিউটারে কি কি উপাদান থাকে।

 

 

প্রথমেই ভাবুন, আপনার হাতের তালুর সমান একটা মাদারবোর্ডে intel i3 বা ryzen3 এর সমকক্ষ একটি প্রসেসর,৪জিবি মেমোরি, SD card slot,তিনটি ইউএসবি পোর্ট,ইথারনেট পোর্ট,পাওয়ার এডাপ্টার,ওয়াইফাই, Bluetooth, ৪০টি ইনপুট আউটপুট পিন ইত্যাদি জিনিসগুলো থাকে তাহলে আকাশ থেকে পড়ারই কথা,তাইনা? এর দাম মাত্র ৩৫-৫৫ ডলার,কীবোর্ড-মাউস কিনলে ৭০-৮০ ডলারের কাছাকাছি মোট  খরচ হবে। এতে HDMI পোর্ট আছে,যার মাধ্যমে যেকোন মনিটরের সাথে জুড়ে দিয়ে ডিসপ্লে হিসেবে কাজ করা যায়। বাংলাদশী টাকায় ১০০০০ টাকার মধ্যে পুরো সেট-আপ পাওয়া যাচ্ছে।

এবার আসা যাক, Raspberry  Pi কিভাবে জনপ্রিয় হলো। তাদের জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে রয়েছে তাদের ডিজাইনিং আর পোর্টেবিলিটির উতকর্ষতা। তাদের সর্বশেষ Raspberry pi 400 এক অভুতপূর্ব মাত্রা যোগ করেছে সিংগেল বোর্ড কম্পিউটার জগতে।

 

২৮ইঞ্চি*১২ইঞ্চি এই কীবোর্ডের ভিতরে রয়েছে সব ধরণের কম্পিউটিং উপাদান। কোন একটি SD card এ আপনার কাংখিত অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করে এই pi 400 এর SD card slot এ প্রবেশ করিয়ে দিলেই চালু হয়ে যাবে আপনার কম্পিউটার। শিক্ষাবান্ধব এই কম্পিউটারের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে ব্যবহারকারীর গ্রহনযোগ্যতা। আপনি একজন রোবোটিক্স  এক্সপার্ট? ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপের চাইতে এমন কিছু আপনার দরকার হবে যাতে একইসাথে প্রোগ্রাম লিখতে এবং ইনপুট-আউটপুট সিগন্যাল পরীক্ষা করতে পারেন। Pi 400 এর ৪০ পিনবিশিষ্ট হেডার দিয়ে সহজেই এই দুইটি কাজই করা যাবে। আপনি একজন প্রোগ্রামার? পাইথন,জাভা,সি ইত্যাদি যেকোন ভাষার ডেভেলপমেনন্ট এনভায়রনমেন্ট পাওয়া যাবে এখানে। এমনকি Android Studio কিংবা Artificial Intelligence এর মতো ভারী কাজগুলোতেও সন্তোষজনক দক্ষতা পাওয়া গিয়েছে।

ঘরে,অফিসে,স্কুল-কলেজে যেকোন জায়গায় এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে এর পোর্টেবিলিটির জন্য। এর ওজন ৫০০গ্রামেরও কম। এডাপ্টার ব্যবহার করে আপনি চাইলে হোটেল রুমের টিভিকেও কম্পিউটার মনিটর হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। আবার হোম নেটওয়ার্ক তৈরীর সময় সার্ভার তৈরী করতে পারবেন ক্লাস্টারিং এর মাধ্যমে। ড্রোন,অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার রোবটস,কমপ্লেক্স রোবোটিক্স,এমনকি mars rover এর নিজস্ব সংস্করণ তৈরী করতে পারবেন। ধরুন,আপনার কাছে চারটা SD card আছে ,এবং চারটিতে Ubuntu,Debian,kali,Sailfish এই চারটি অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করা আছে। আপনার যখন যেটা লাগবে সেই SD card ঢুকিয়ে দিলেই ব্যস! আপনি সেটিই চালাতে পারবেন। এতো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে আপনার ব্যাগের কোনায় পড়ে থাকা একটা কীবোর্ড,আর  তার সাথে থাকা কিছু এডাপটারের মাধ্যমে। তাহলে Raspberry pi ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের স্কিলকে বাড়িয়ে নিন কয়েক ধাপ।

 

Source: www.raspberrypi.org

By Metheela Farzana Melody

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *