নিকোলা টেসলা : ম্যান অফ দা ফিউচার-১

গুগলের তথ্যানুসারে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে ১০৮ বিলিয়ন হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতির জীব অর্থাৎ মানুষ জন্মিয়েছে যা সংখ্যায় প্রায় ১০ হাজার ৮০০ কোটি । বর্তমান পৃথিবীর জনসংখ্যা হল ৭.৮ বিলিয়ন বা ৭৮০ কোটি । এদের মধ্যে ২০১৩ সালের হালনাগাদে সারা বিশ্বে বৈজ্ঞানিকদের সংখ্যা ছিল ৭.৮ মিলিয়ন বা ৭৮ লক্ষ । এত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক থাকার পরেও খুব কম বিজ্ঞানীই রয়েছেন যারা পুরো মানবসভ্যতার বর্তমান – ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত অবিরাম অক্লান্ত পরিশ্রমে কাজ করে গিয়েছেন।এদের মধ্যে শীর্ষে নিকোলাস টেসলা এর নাম দেখলে একবিংশ শতাব্দীর অনেক ব্যক্তির চোখ মাথার উপরে উঠে যাওয়ার মত অবস্থা হবে । এটি অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আজ আমাদের হাতের মুঠোতে থাকতেও আজো অনেক মহারথীর ইতিহাস লেখা কাব্য রচনা আমাদের কাছে অজানা যে তারা কেন এবং কিভাবে তাদের অবসানের এত বছর পরেও আজো এই শীর্ষের চূড়ায় অরোহন করে রয়েছেন  । এজন্যই নিকোলাস টেসলা নামটা আমরা শুনলেই প্রথমে গুগলে সার্চ করতে চাই যে কে এই জনাব ? কিই বা তাঁর কীর্তি ? আসুন আজ জেনে নিই এই ‘’ম্যান অফ দা ফিউচার’’ খ্যাত ব্যক্তির জীবনী।

জন্ম :

১৮৫৬ সালের ১০ই জুলাই তৎকালীন সার্বিয়ার (বর্তমানে ক্রোয়েশিয়া) স্মিলিজান শহরের এক ভয়াবহ ঝড়বৃষ্টি আর বজ্রপাতের রাতে টেসলার জন্ম । এমন আবহাওয়ায় জন্মানোয় এক বৃদ্ধা ধাত্রী কুসংস্কারাচ্ছন্ন ভাষায় তাকে অশুভ শিশু বা “Child of Darkness” বলেছিলেন। কিন্তু মায়ের অগাধ বিশ্বাসে সেইদিন টেসলার মা সেই বৃদ্ধা ধাত্রীর কুসংস্কারের জবাবের প্রতি উত্তর দিয়েছিলেন  “আমার এ সন্তান একদিন আলো বয়ে আনবে ” যার ফলে সে তাঁর মায়ের কাছে “Child of Light” হিসেবে জন্মের শুভক্ষণ থেকেই আগামী বিশ্বের এক শুভ বার্তা ছিল ।

শিক্ষাজীবন :

নিকোলা টেসলার পিতা ছিলেন একজন ধর্মযাজক সেই সুত্রে তিনি তাঁর সন্তানকেও ধর্মযাজক বানাতে চেয়েছিলেন । কিন্তু ধর্মযাজক শিক্ষাজীবনের কিছুদিন পরেই সে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে এক প্রকার মৃত্যু পথ থেকে বেঁচে আসেন । যার ফলে এরপর তাকে পারিবারিকভাবে একজন প্রকৌশলী বানানোর পরিকল্পনা করা হয় । সেই অনুসারে স্কুল এবং কলেজে সে তাঁর প্রতিভার বিস্ময় দেখাতে শুরু করলেন ।বড় বড় এবং জটিল ত্রিকোণমিতিক ও ক্যালকুলাসের সমস্যার সমাধান সে বই ,খাতা,কলম ছাড়াই তাঁর চিন্তা শক্তির মাধ্যমে উত্তর বলে দিতে পারতেন  ।

কলেজ জীবন শুরু করেন অস্ট্রিয়া পলিটেকনিকে। প্রথম বছর তিনি ছিলেন সেরা ছাত্র, এমনকি কলেজের ডিন তার বাবাকে চিঠিতে অভিবাদন জানান।ইঞ্জিনিয়ারিং এ অধ্যায়নের সময় একবার একটি বিষয় নিয়ে তাঁর শিক্ষকের সাথে তাঁর দ্বিমত পোষণ হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে সে পরবর্তীতে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা ল্যাবে বিভিন্ন জিনিস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করে দেন তাঁর শিক্ষকের কাছে যে তাঁর ধারনাই সঠিক ।এই ঘটনা সারা কলেজে ছড়িয়ে পড়লে পুরো কলেজে তাঁর সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ।এটি ছিল তাঁর কলেজ জীবনের ২য় বর্ষের ঘটনা । নিকোলা টেসলা সব সময় ছিলেন কর্মঠ এবং একগুঁয়ে। তিনি ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমাতেন । সে তাঁর কাজের প্রতি এতটাই বিভোর ছিলেন যে তাঁর কলেজের ডিন তাঁর বাবাকে চিঠিতে একবার লিখেছিলেন আপনার সন্তানকে যথাসম্ভব এখান থেকে নিয়ে যান না হলে সে এত অতিরিক্ত কাজের চাপে কোন একদিন মারা যাবে।  কিন্তু মেধাবী এই ছাত্র তৃতীয় বর্ষে আসক্ত হন জুয়া খেলায়। ফলাফল ৩য় বর্ষে গিয়ে ড্রপ আউট।

কর্মজীবন :

পড়াশোনার পাঠের সমাপ্তি ঘটিয়ে এবার মনোনিবেশ করেছিলেন চাকরিতে। ১৮৮১ সালে বুদাপেস্ট টেলিফোন এক্সচেঞ্জে চাকরি নেন টেসলা। টেসলা সেখানে তার মেধা এবং অক্লান্ত চেষ্টার মাধ্যমে পুরো কোম্পানির মেশিনাদি ও যন্ত্রপাতি ঠিক করা ছাড়াও আমূল এক পরিবর্তন এনে দেন। টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাজ করার সময় টেসলা আরেক উদ্ভাবক তিভাদার পুস্কাসের সাথে কাজ করা শুরু করেন। ১৮৮২ সালে তিভাদারের সহায়তায় নিকোলা টেসলা প্যারিসে পাড়ি জমান আরেক বিখ্যাত উদ্ভাবকের কোম্পানিতে কাজ করার জন্য। ধারণা করতে পারছেন কে? হ্যাঁ, তখনকার বিশ্বের সেরা ইঞ্জিনিয়ার এবং ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা টমাস আলভা এডিসনের প্যারিস শাখার অফিসে আসেন টেসলা।

By খুরশিদুল আলম শান্ত

তথ্যসুত্র :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *