ভার্চুয়াল জগতে আমরা কি আদৌ নিরাপদ?

বর্তমান সময়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার বা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম শুনেনি এমন মানুষ খুব কমই আছে। আবার আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছে যারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একাধিক আইডি ব্যবহার করে। কিন্তু তারা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছে ব্রাউজারে তারা যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করছে বা বিভিন্ন সফটওয়্যার ইন্সটল করছে কি কি Permission তাদের কাছ থেকে চাওয়া হচ্ছে বা Cach file এর Access চাচ্ছে? আমরা প্রতিনিয়তই এইসবের সম্মুখীন হচ্ছি কিন্তু আমরা এসব কিছুকে তোয়াক্কা করছি না ফলে আমরা অনায়াসে সেগুলোর Access দিয়ে দিচ্ছি। আমাদের চিন্তা এই যে, ” আরে ধুর আমার ডাটা নিয়ে তারা করবেই বা কি আর করলে করুক গিয়ে আমার কি তাতে!!! ” আজ আমরা বাংলাদেশে বসে হয়তো আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রলিং এ ব্যাস্ত সময় পার করছি কিন্তু বিশ্বের অপর প্রান্তে শুরু হয়ে গেছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগ যা আমার আপনার চিন্তা ধারার বাইরে। আমাদের বিন্দু মাত্র ধারনা নেই যে কি না করতে পারে এই কোয়ান্টাম কম্পিউটার বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এলগরিদম আপনার ডাটা গুলো নিয়ে।

এবার জানা যাক কি কি করতে পারে আমাদের পাবলিক ইনফরমেশন নিয়েঃ

Personalized Adds : আপনার ডাটা, প্রতিটি নিউজফিডের উপর রিয়েকশন, ব্রাউজার ক্যাচ, মাইক্রফোন এনালাইসিস করে আপনার ডাটা উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন তৈরি করে যা কিনা আপনার টাইমলাইনে বা মেইলেই শুধু আসবে। প্রতিনিয়তই যখন আসতে থাকবে তখন আপনার অজান্তেই সেসব অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপনের উপর লোভ জন্মাতেই পারে ফলস্বরূপ সাপের গর্তে পা দেওয়া।

Behaviour Tracking : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, টুইটারে বিভিন্ন কনটেন্ট এ আপনার রিয়েকশন বা কাজের ধরন ট্র‍্যাক করে ডাটা পয়েন্টগুলাকে আপডেট করে algorithm train করেতে পারে। ব্যাপার টা খুবই ভয়ংকর হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় তারা জানতে পারে আপনি ধর্মীয়ভাবে খুবই সেন্সেটিভ ফলে খুব সহজেই বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে আপনাকে উসকে দিতে পারে যার ফলে কোন সম্প্রদায়ের মানুষের উপর আপনার তীব্র ঘৃনা জন্মাতে পারে ফলে এটি আমাদের দেশের জন্য মারাত্বক হুমকিস্বরূপ।

এবার আসি থার্ড পার্টি সফটওয়্যার বা ফেসবুক গেমসঃ

খেয়াল করে দেখবেন ফেসবুকের বিভিন্ন থার্ড পার্টি সফটওয়্যার গুলো আপনার কাছ থেকে আপনার ফেসবুক আইডির Access চায় ফলে ঐ সফটওয়্যার গুলো আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে আপনার ফ্রেন্ড লিস্ট রিড করতে পারছে এতে করে সে সফটওয়্যার গুলো শুধু আপনার ডাটা সংরক্ষণ করতে তাই নয় সে সফটওয়্যার গুলো আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে যারা আছে তাদেরকে আপনার ডাটার একটি Node হিসাবে ডাটাবেজ সাজানো হচ্ছে এছাড়া Contact Number এবং E-mail Address তো সংরক্ষণ করছে।

এবার আসি নিরাপত্তা নিয়ে->>>

আপনার Google Account এর নিরাপত্তাঃ

ইন্টারনেটের জগতে যে কোন বিষয়কে আমরা খুব বেশি প্রাধান্য দিতে পারি না, কারণ যে কোন বিষয়কে আপনি যখনই প্রাধান্য দিতে চাইবেন তখন আপনাকে যে বিষয়টির প্রতি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সেটা হলো সিকিউরিটি।

আপনি হয়তো যেকোনো কিছু ব্যবহার করার পরে ওই বিষয়ে আপনাকে দেয়া সিকিউরিটি সম্পর্কে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারবেন না।

কারণ এরকম হতে পারে আপনার একটি মিসটেক আপনার সারা জীবনের সমস্ত কিছু শেষ করে দিতে পারে।

আপনার গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো কে ইন্টারনেটে ভালোভাবে সুরক্ষিত করে রাখতে চান যাতে করে আপনার ফোনে থাকা ফাইলগুলো ডিলেট হওয়ার পরেও আপনি এটি আবারো ফিরে পান যেকোনো মোবাইল দিয়ে তাহলে আপনি গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারেন।

কারন গুগল ড্রাইভে রয়েছে ফ্রি স্টোরেজ প্রায় 15 জিবির মত, যেখানে আপনি চাইলে আপনার ভিডিও ডকুমেন্ট অডিও ফটো কিংবা যেকোনো কিছু রাখতে পারবেন।

তবে এগুলো রাখার পরে কিংবা আগে আপনার মনের অগোচরে হয়তো একটি প্রশ্ন বাসা বাঁধে আর সেটি হল গুগল ড্রাইভ এর নিরাপত্তা আসলে কতটা? গুগল ড্রাইভ কি আসলেই নিরাপদ?

আপনি হয়তো এই সম্পর্কে পুরোপুরি জানতে চান তাই আজকের এই পোস্টটিতে পদার্পণ করেছেন, আশা করি সমস্ত তথ্য এই পোষ্টের মাধ্যমে পেয়ে যাবেন।

গুগল ড্রাইভের নিরাপত্তা?

বর্তমান সময়ে যে প্ল্যাটফর্মটির সিকিউরিটি সবচেয়ে শক্তিশালী সেটা হলো গুগোল, আর গুগল ড্রাইভ হল গুগলের একটি প্রোডাক্ট যার মাধ্যমে আপনি আপনার ফাইলগুলো সিকিউর করে রাখেন।

গুগল ড্রাইভ এর মধ্যে আপনি আপনার ফাইলগুলো রাখতে হলে প্রথমত আপনাকে একটি গুগল অ্যাকাউন্ট অর্থাৎ জিমেইল একাউন্ট সিলেক্ট করে নিতে হয়।

মূলত আপনার গুগোল ড্রাইভ কতটা নিরাপদ কিংবা কত সময় আপনার হাতে থাকবে তার সিংহভাগ কিংবা পুরোটাই নির্ভর করে আপনার গুগোল অ্যাকাউন্ট কতক্ষণ পর্যন্ত আপনার কাছে আছে ঠিক সেটার উপর।

যার মানে হল আপনি আপনার গুগল ড্রাইভ কে আজীবন আপনার কাছে রেখে দিতে হলে অবশ্যই আপনার একাউন্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং এটি অবশ্যই আপনার কাছে রাখতে হবে।

আপনি হয়তো এই সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত আছেন যে যখনই আপনি অন্য কোন ডিভাইস থেকে আপনার গুগল একাউন্টে লগইন করেন তখন আপনার ডিভাইসে একটি নোটিফিকেশন চলে আসে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের অ্যাপ্রভাল জনিত সমস্যার সৃষ্টি হয় যা আপনার ফোন ছাড়া আর কোন ফোন দিয়ে অ্যাপ্রুভ করলেও করলে যে কেউ লগইন করতে পারেনা।

আমাদের মধ্যে অনেকেরই মনে রকম প্রশ্ন জাগে যে কেউ কি আমাদের গুগল ড্রাইভে থাকা ছবিগুলোর এক্সেস নিতে পারবে?

ব্যাপারটা এরকম যে কেউ তখনই আপনার গুগল ড্রাইভে থাকা ছবি কিংবা ডকুমেন্টের এক্সেস নিতে পারবে যখন সে আপনার গুগোল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে।

তাই গুগল ড্রাইভে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার গুগল একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে তাহলে এই কাজটি হয়ে যাবে।

গুগল অ্যাকাউন্ট এর নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আপনাকে যে কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে তা হল ->

1.শক্তিশালী পাসওয়ার্ড

2.রিকভারি ইমেইল বা ফোন নাম্বার

3.টু স্টেপ ভেরিফিকেশন

4.লগইন এলার্ট

5.ডিভাইস অ্যাপ্রভাল ইত্যাদি

মূলত আপনার গুগোল অ্যাকাউন্ট এরমধ্যে উপরোক্ত বিষয়গুলো সমস্ত কিছু, একটিভ করে রাখেন তাহলে আপনার গুগোল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার মতো নয়।

আর যখনই আপনার গুগোল কেউ হ্যাক করতে পারবে না তখনই আপনি এই সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যান যে আপনার গুগোল অ্যাকাউন্ট এর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে গেছে।

তাই আপনি অবশ্যই গুগল ড্রাইভ এর নিরাপত্তা কথা চিন্তা না করে প্রথমেই আপনার গুগল একাউন্টের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করুন।

এবার আসি Facebook Accout এর নিরাপত্তা নিয়েঃ

বর্তমানে আমাদের দেশে সহ সারা বিশ্বে ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া একটি প্রধান সমস্যা। আমাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার মূল কারন আমাদের অসচেতনতা আর আমাদের অসচেতনতার কারনে আমাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে থাকে।

ফেসবুক আইডি কে কিভাবে নিরাপদ রাখা যায় সে সব বিষয়ে আলোচনা করবো। আশা করি সবাই নিজের টাইমলাইনে সেয়ার করবেন

★ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের যে অসচেতনতা দেখা যায় সেগুলো হলো -->>>

Login এর সময় Email address এর পরিবর্তে Mobile Number ব্যবহার করা।

2 step Verification অথবা 2 factor Authentication Enable না করা।

দুর্বল পাসওয়ার্ড বা সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ডের ব্যবহার (যেমনঃ আপনার মোবাইল নম্বর, ডাক নাম, সন্তানের নাম, জন্ম তারিখ, পিতা মাতার নাম ইত্যাদি)

আপনার ফেসবুক আইডির নাম, জন্ম তারিখ,Original নাম ও জন্ম তারিখ থেকে আলাদা হওয়া।

জন্ম তারিখ Public রাখা।

ফেসবুক ও যে Email দিয়ে facebook id খুলেছেন তার পাসওয়ার্ড একই থাকা। তাহলে হ্যাকার যখন আপনার Facebook হ্যাক করবে, সাথে সাথে আপনার Email Id ও হ্যাক হয়ে যাবে।

কিভাবে আপনার Facebook ID কে Secure করবেন? -->>>

Mobile Number এর পরিবর্তে Email Address ব্যবহার করুন। কারন আপনার Password হ্যাকার চেঞ্জ করলে সাথে সাথেই Facebook আপনার Email এ Mail পাঠিয়ে আপনাকে সতর্ক করবে। সেখানে Recovery Link দেয়া থাকে। তাতে ক্লিক করে আপনি সহজেই আইডি Recover করতে পারবেন।

ফেসবুকের সেটিংস থেকে Security and login>use two-factor authentication এ গিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর যুক্ত করুন। এর পর অন্য কোন মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে আপনার আইডি তে লগইন করার চেষ্টা করুন, দেখুন পাসওয়ার্ড দেবার পর কোড চায় কিনা। যদি চায় তাহলে আপনার 2 factor Authentication চালু হয়েছে। এখন কেউ আপনার ইমেইল+পাসওয়ার্ড জানলেও আপনার মোবাইল হাতে না পেলে হ্যাক করতে পারবে না।

অনেকের পাসওয়ার্ড থাকে শুধু মাত্র সংখা দিয়ে যা অত্যন্ত দুর্বল। পাসওয়ার্ড তৈরি করুন Capital letter, small letter, number & symbol মিলিয়ে। ৮ ক্যারেক্টারের নিচে পাসওয়ার্ড না হওয়াই উত্তম।

সেটিংস এ গেলে ১টি Option আছে Choose 3 to 5 friends to contact if you get locked out. এখানে আপনি আপনার ৩ থেকে ৫ জন কাছের মানুষকে সংযুক্ত করুন যাদের সাথে আপনার সরাসরি/ফোনে যেকোন সময় যোগাযোগ করতে পারবেন। যদি আপনার আইডি হ্যাক হয়ে যায় তাহলে তাদেরকে বলতে হবে Facebook.com/recover এ লিংকে যেতে। তারা সেখানে আপনার আইডি রিকভার করার জন্য কোড পাবে আর সে কোড ব্যবহার করেও আপনি আপনার আইডি রিকভার করতে পারবেন।

বর্তমানে আইডি রিকভার করতে গেলে ফেসবুক ভিকটিমের আইডি কার্ডের ছবি চায়। কিন্তু দেখা যায় যে, আইডি কার্ডে যে নাম ও জন্ম তারিখ আছে তার সাথে ফেসবুকের নাম ও জন্ম তারিখ মেলে না। ফলে Recover করা সম্ভব হয় না। সুতরাং অবশ্যই আপনার আইডিতে যে নাম ও জন্ম তারিখ আছে তা ব্যবহার করুন।

আপনার জন্ম তারিখ বা Birthday Date যদি ওপেন থাকে তাহলে আপনি ১ ধরনের আক্রমনের আওতায় রয়েছেন। ১ গ্রুপের হ্যাকার রয়েছে যারা আপনার ফেসবুকের নাম ও জন্ম তারিখ মিলিয়ে মিথ্যা পরিচয় পত্র তৈরি করে আপনার আইডির কন্ট্রোল আপনার কাছে নিয়ে নেয়। সুতরাং কখওই জন্ম তারিখ বা Birthday Date ওপেন থাকা উচিত নয়।

আমাদের সকলকে ফেসবুকে যে সকল কার্যক্রম থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিত -->>>

কখনোই আপনার একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ফেসবুকে বিশেষ করে ম্যাসেঞ্জারে কারো সাথে শেয়ার করবেন না। দেখা যায় যে অনেকেই তার আপনজনের সাথে তাদের ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করে। পরবর্তিতে ঐ দুই জনের যে কোন একজনের ফেসবুক হ্যাক হয়ে গেলেই হ্যাকার ঐ সকল ছবি সংগ্রহ করে ব্লাকমেইল করা শুরু করে।

অনেকে ফেসবুকে Secret Album তৈরি করে তাতে তার বিভিন্ন ছবি, সার্টিফিকেট, আইডি কার্ড সংরক্ষন করে থাকে। এটি হ্যাকারদের জন্য হীরার খনি। আপনার আইডি হ্যাক হওয়া মানে আপনার সকল ব্যক্তিগত তথ্য তার কাছে চলে গেল। এটা কখনোই করা উচিত নয়।

কোন লিংকে ক্লিক করে যদি ফেসবুকে রিডাইরেক্ট হয়ে যান ও সেখানে ফেসবুকের আইডি ও পাসওয়ার্ড দিতে বলা হয়, তাহলে সম্ভবত আপনাকে Phishing করা হচ্ছে। ভুলেও সেখানে আইডি, পাসওয়ার্ড দেবেন না। যে সাইটে গেলেন তার URL আগে খুব ভাল করে দেখে নিন। Facebook না Faecbook এ গেলেন? প্রয়োজনে অন্য ১টি ট্যাবে আলাদা ভাবে নিজে ব্রাউজ করে ফেসবুকে গিয়ে লগ ইন করুন।

হঠাৎ আপনার ইনবক্সে আপনার যে কেউ ম্যাসেজ পাঠাতে পারে যে, আমি ওমুক ১টা ফেসবুক গ্রুপে গিয়ে দেখলাম যে আপনার কিছু অসামাজিক ছবি আপলোড করা হয়েছে। নিচে লিংক দেয়া আছে। ক্লিক করলে আপনার ১টি এডিটেড ছবি ও তার নিচে লগ ইন করে বাকি সব ছবি ও ভিডিও দেখার জন্য বলা থাকতে পারে। এটাও এক ধরনের ফিশিং। আসলে আপনি লগইন করতে গেলে আপনার ফেসবুকের আইডি আর পাসওয়ার্ড চুরি হয়ে যাবে।

Mobile এ যে সকল কোড আসবে তা কখনোই কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

“ঘুম থেকে উঠলাম”, “ক্লাসে যাচ্ছি”, “কিছু ভাল লাগছে না” এই টাইপের স্টাটাস না দেয়া উচিৎ। ধরুন আপনি আপনার পুরো ফ্যামিলি নিয়ে ইদে গ্রামের বাড়ী বেড়াতে যাচ্ছেন। রেলগাড়ীতে উঠে ১টা স্টাটাস, বাড়ী পৌছে আর ১টা স্টাটাস দিলেন। আর আপনার ফ্রেন্ড লিষ্টে থাকা কোন এক জন ব্যক্তি বুঝে গেল যে আপনার বাড়ী ফাঁকা, আর এ সুযোগে আপনার বাসার সব চুড়ি করে নিয়ে গেল। আপনার একটি সাদামাটা পোষ্ট আপনার ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে।

অনলাইনে যে কোন পোষ্ট বা কমেন্ট করার আগে চিন্তা ভাবনা করে করা উচিৎ।।

এবার আসি কিভাবে এসব থেকে নিরাপদ থাকা যায়ঃ

বিষয়গুলোর প্রভাব এখন লক্ষ্য করা না গেলেও আগামী কয়েক বছর পর এর পরিনাম ব্যাপকরূপ নিবে। হয়তো সিস্টেম বা কোনো সার্ভার আপনার সব ডাটা জানে, হয়তো আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আপনার বর্তমান লোকেশন এবং আপনার মানষিক অবস্থা সবই সিস্টেম বা 3rd পার্টি এপ নির্মাতারা জানে। কিছু উপায় আছে

এপস ইন্সটল করার সময় দেখে নেওয়া , যে সকল পারমিশন চাচ্ছে আসলেও কি এপস এর জন্য তা লাগবে কিনা। যেমনঃ মিউজিক প্লেয়ার এ যদি আপনার কন্টাক লিস্ট আর মেসেজ এর এক্সেস চায়, সিক্রেট চ্যাট সার্ভিস আপনার ফেসবুক প্রোফাইলের এক্সেস চায় ইত্যাদি।

আমরা জানি আমরা ইতোমধ্যেই ফেসবুক এবং গুগলের কাছে বিক্রি। তবে যা করতে পারি তা হলো, আমাদের প্রতিটা আবেগ এবং প্রতিটা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়ানো। কারণ, এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাকেন্ড এ বসে আছে সবচেয়ে শক্তিশালি AI Engine গুলোর একটি।

একাধিক প্রোফাইল চালানোর প্রবণতা কমাতে হবে। উপরেও একবার বলেছি এতে করে ডাটাসেটের নোড এর সংখ্যা বাড়ে যাতে করে মেশিন আরো সুক্ষভাবে আপনাকে শনাক্ত করতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের হ্যাকিং রিলেটেড মুভি আছে সেগুলো দেখলে আরো সহজ ভাবে ভার্চুয়াল জগতের নিরাপত্তা সম্পর্কে ভালো ভাবে জানতে পারবেন।

আজ এই পর্যন্তই।

 

By শেখ মুহাম্মাদ আশিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *